মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
* ফরেস্টারকে গাড়ি প্রতি দিতে হয় ১০ হাজার।
*৬ মাসে ১০৭ গাড়ি শাল-গজারি পাচার, ফরেস্টারের পকেটে ১০ লাখ ৭০ হাজার।
*অভিযানে যাওয়ার আগে তথ্য দিয়ে সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেন ব্যবসায়ীদের কাছে।
*টাকা দিলে শাল-গজারি পাচারে থাকে না বাধা।
বিশেষ প্রতিনিধি
অবৈধভাবে শাল-গজারি গাছ পাচারের তথ্যের ভিত্তিতে গোসিংগা বিট কর্মকর্তা অভিযানের নামে একটি নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছেন। গত বৃহঃস্পতিবার ঢাকা বনবিভাগে ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চল, বন সংরক্ষক (সিএফ) হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ কে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার তরগাও ইউনিয়নের ভাগিয়া এলাকায় অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে ১৮০ পিচ শাল-গজারি গাছ প্রস্তুত করে স্তুপ আকারে রাখার তথ্য ভিডিও চিত্রসহ দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি তিনি আমলে নিয়ে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মুহাম্মদ শামসুল আরিফীনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশে দিয়েছেন।
পরে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মুহাম্মদ শামসুল আরিফীনের নির্দেশে শ্রীপুর রেঞ্জাধীন গোসিংগা বিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ফরেস্ট গার্ড মনিরুজ্জামান কে সাথে নিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ রক্ষার্থে নামে মাত্র অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ী কাশেমের সাথে ৫০ হাজার টাকায় রফাদফা করে ১২৮ পিচ শাল-গজারি গাছ পাচারে সহযোগীতা করেন। অপরদিকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বুঝাতে ৫২ পিচ গাছ জব্দ করা হয় এবং কাশেম তার নিজস্ব খরচে পাকিয়াব সাব বিট অফিসে জব্দকৃত গাছ গুলো পৌঁছে দিয়েছে।
ঘটনাস্থল সূত্রের তথ্যে জানাগেছে, ভাগিয়া এলাকার বেশিরভাগ জায়গা ডিসি ল্যান্ড ভূক্ত ( সরকারি খাস) জমিতে শাল-গজারি বন। অবৈধ শাল-গজারি কাঠ ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ভাগিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ভাবে শাল-গজারি গাছ কেটে এনে ১৮০ পিচ গাছ স্তুপ আকারে জড়ো করে রাখেন স্বাধীনতা মাঠের পাশে আলমের বাড়ির গলিতে।
ফরেস্টার এসে কাশেমের সাথে আলোচনা শেষে ফরেস্টার কে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর ২০ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ পিচ শাল-গজারি গাছ পাকিয়াব বিটে পাঠিয়েছে কাশেম। বাকি ১২৮ পিচ গাছ ঢাকা রায়েরবাগ মাসুদের দোকানে পাঠিয়ে কাশেম। এছাড়া প্রায় ২০ বছরের অধিক সময় ধরে কাশেম অবৈধভাবে শাল-গজারি গাছ পাচার করে আসছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এর আগে কয়েকবার জব্দও করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন ও ফরেস্টের লোকেরা।বলে রাখা ভালো এ বিষয়ে ওই দিন বিকাল ৫ টা ৪৩ মিনিটে প্রথমে গোসিংগা বিট কর্মকর্তা ফরেস্টার সিরাজুল ইসলামকে তথ্য দেওয়ার জন্য এই প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় ফরেস্ট গার্ড মনিরুজ্জামান কে জানানো হয়। পরে তিনি বিষয়টি এই প্রতিবেদকের সাথে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ব্যবসায়ী কাশেম কে জানিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে ফরেস্ট গার্ড মনিরুজ্জামান ও ফরেস্টার সিরাজুল ইসলাম ব্যবসায়ী কাশেমের সাথে রায়েদের দরদরিয়া মোড়ে বসে আলোচনা করেন। ওই সময় শাল-গজারি কাঠের অবৈধ ব্যবসায়ী কাশেম এই প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাতের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বলেন, যা করেছেন ভালো করেছেন, আল্লায় আপনার ভালো করুক ইত্যাদি বলতে থাকেন। জানিয়ে রাখা ভালো এর আগেও এই ফরেস্টার মোটা লেনদেনের বিনিময়ে দেওনা মাদ্রাসার পাশ থেকে কাঠ জব্দের পর হারুন শিকদারের নামে মামলা দিতে নানান নাটকীয়তা করেন। ২১ দিন পর এসিএফ সামসুল আরিফিন এর নির্দেশে মামলা দিতে বাধ্য হয়ে ছিলেন। যে কারনে অবশ্য হারুনের বেশ হুমকি শুনতে হয়েছে ফরেস্টারকে। এবিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মুহাম্মদ শামসুল আরিফীনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তথ্য পাওয়া মাত্রই গাছ গুলো জব্দে অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গোসিংগা বিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম কে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫২ পিচ জব্দ করেছে, বাকি গাছ গুলো হয়তো বা সরিয়ে ফেলা হয়েছে, ফরেস্টার সাহেব যে গুলো পেয়েছে সেগুলোই জব্দ করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এঅন্যকিছু হয়েছে কিনা বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে।
উল্লেখ্য আছে, শাল-গজারি গাছ পাচারে ফরেস্টার সিরাজুল ইসলামের সহযোগীতায় বাণিজ্য দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে জানাগেছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১২ তারিখ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০৭ টি শাল-গজারি ভর্তি গাড়ি (ট্রাক) পাচার হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতিটি গাড়ির জন্য গার্ড মনিরুজ্জামানের মাধ্যমে ফরেস্টার সিরাজুল ইসলাম ১০ হাজার টাকা করে ঘোষ নিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি এ পর্যন্তন১০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ঘোষ গ্রহণ করেছেন।
ব্যবসায়ীরা হলেন, হারুন শিকদার ও তার ভাই রেহান উদ্দীন, আবুল কাশেম ও তার ছেলে আল-আমিন, শাহজাহান হাজ্বী, শাহজাহান মেম্বারের ছেলে মামুন, মতিউর রহমান ও মুঞ্জুর মোর্শেদ, আব্দুর রহমান সাবেক নাম শ্রী সম্পদ রবিদাশ, মোসারফ হোসেন টিটু মেম্বার, নূরুজ্জামান, এমদাদুল হক অনেকেই ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। তাদের বেশিরভাগ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা জানিয়েছে, ১০ হাজার করে টাকা দিয়ে গাড়ি নেওয়া হয়। টাকা না দিলে গাড়ি নেওয়া তো দূরের কথা একটি গাছের পাতাও কাটা সম্ভব হবে না। ফরেস্টারের কথা ছারা ব্যবসা করা যাবেনা, কথা না শুনলে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়। কিছুদিন আগে ফরেস্টারের চাহিদা পুড়ন না হওয়ায় এক ব্যবসায়ী কে মামলায় জড়িয়েছেন। মামলায় পড়া ব্যবসায়ী জানায়, গাড়ি প্রতি ১০ হাজার করে টাকা দেওয়ার পরেও মামলা দিয়েছে আমার নামে। টাকা না নিয়ে অনুমতি না দিলে আমরা ব্যবসা করি না। অনুমতিও দিবে আবার মামলাও দিবে এটা করার মানে কি। একটি বিশ্বাস মাধ্যম ছদ্মনাম এসকে শুভ জানিয়েছে, এ বিষয় নিয়ে নিউজ করলে আপনাকে মিথ্যা মামলা দিবো বলে ফরেস্টার। ফরেস্টারের বদলি হয়েগেছে টাংঙ্গাইলে, যাওয়ার আগে দিয়ে আপনার নামে মামলা দিয়ে যাবে এমনটা বলেছে ফরেস্টের লোক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফরেস্টার সিরাজুল ইসলামের সাথে বহুবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।